নগরের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সরকার


  প্রকাশিত হয়েছেঃ  03:15 PM, 13 November 2020

করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্জ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। রাজধানীর পাশে সাভারের বলিয়াপুরে ৩০ একর জমিতে স্থাপন করা হচ্ছে ৬০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র। এই কেন্দ্রে প্রতিদিন তিন হাজার টন বর্জ্য সরবরাহ করতে হবে ডিএনসিসিকে। ফলে শহরের বর্জ্য থেকে পরিবেশ দূষণের আর সুযোগ থাকবে না। অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যও অর্জন হবে।

বৃহস্পতিবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এই প্রকল্পের দরপ্রস্তাব অনুমোদন করেছে। মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে উপস্থাপন করা সারসংক্ষেপ থেকে জানা যায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে চীনের কোম্পানি চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিএমইসি)। এরই মধ্যে সিএমইসির সঙ্গে বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত চুক্তি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও বিদ্যুৎ বিভাগ। চুক্তি অনুযায়ী ৩০ একর জমিতে স্থাপন করা হবে এই প্রকল্প। এই জমি দেবে ডিএনসিসি। এর থেকে উৎপাদিত বর্জ্য রাখার জন্য অতিরিক্ত জমি দরকার হলে সিএমইসি কিনে বা লিজ নেবে।

৬০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র স্থাপন করতে ২০ মাস সময় চেয়েছে সিএমইসি। এই কেন্দ্রের রেটেড গ্রস আউটপুট হবে ৫০ মেগাওয়াট, যা থেকে নিট উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়াবে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ কেন্দ্রটি পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন করলে সরকার ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াটের দাম দেবে। ২৫ বছর ধরে কেন্দ্রটি পরিচালনা করবে সিএমইসি। এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কেনার জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিএমইসির সঙ্গে চুক্তি করেছে। প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছে ১৮ টাকা ২৯ পয়সা। সে অনুযায়ী আগামী ২৫ বছর সিএমইসি চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ করলে ১৫ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা পরিশোধ করবে সরকার। তবে যতটা বিদ্যুৎ সরবরাহ হবে ততটুকুর মূল্য পরিশোধ করা হবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্জ্য সরবরাহ ও কেন্দ্র স্থাপনে জমি দেওয়ার বিষয়ে সিএমইসি ও ডিএনসিসির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী ডিএনসিসি প্রতিদিন এই কেন্দ্রে তিন হাজার টন বর্জ্য সরবরাহ করবে। কোনো কারণে সরবরাহ করতে না পারলে প্রতি টন কম সরবরাহের কারণে এক হাজার টাকা করে জরিমানা গুনতে হবে ডিএনসিসিকে। অন্যদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্র সরবরাহ করা বর্জ্য না নিলে প্রতি টনে এক হাজার টাকা করে জরিমানা দেবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বর্জ্য শহর থেকে নিয়ে ডাম্পিং করা হয়। এখন ডাম্পিংয়ের জায়গা কমে যাচ্ছে। আবার ঠিকমতো ডাম্পিং না হওয়ায় পরিবেশ দূষণও হচ্ছে। উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য জাপান, চীন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া কী উদ্যোগ নিয়েছে, তা দেখা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো মডেল হচ্ছে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন। তার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারও এই মডেল নিয়েছে। এ মডেলটি হচ্ছে বিদেশি কোম্পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বিনিয়োগ করবে। সরকার জমি ও বর্জ্য সরবরাহ করবে এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনে নেবে। এখানে জমি ও বর্জ্য সরবরাহ করবে সিটি করপোরেশন। আর বিদ্যুৎ কিনে নেবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

তিনি বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। খুব শিগগির ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প চূড়ান্ত হবে।

বৈঠকে এ প্রকল্পের পাশাপাশি আরও সাতটি ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি। এর মধ্যে শিল্প ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের মোট ছয়টি প্রস্তাবের বিপরীতে তিন লাখ পাঁচ হাজার টন সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। এ ছাড়া খুলনার দিঘলিয়ার ভৈরব নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ক্রয়প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়। এসব প্রস্তাবে মোট ১৬ হাজার ২৭১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয় অনুমোদন করা হয়েছে। যেখানে সরকারের তহবিল থেকে ব্যয় হবে ১৫ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা এবং বাকি ৬৪৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা দেশীয় ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :